চেনা থাইল্যান্ড, অচেনা ভ্রমণ
চেনা থাইল্যান্ড, অচেনা ভ্রমণ
শতাব্দী দত্ত
১
মে, ২০১৪, ০০:০০:০০
প্রথম দিন

সকাল সওয়া ন’টা নাগাদ সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলাম। অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে পাটায়াগামী বাসের টিকিট কাটলাম। বাসে পাটায়া যেতে সময় লাগে ঘণ্টা দুয়েক।
সন্ধের শোয়ে আলকাজার-এর টিকিট কাটা ছিল। এখানে যাতায়াতের জন্য ভাট বাস ব্যবহার করাই ভাল। টুকটুকের থেকে একটু বড় মাপের হয় এই বাস— যে যার গন্তব্যস্থলে পৌঁছে বেল বাজাও, টাকা দাও, নেমে পড়।
হোটেল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে থার্ড রোডের উপরের দোকানগুলোতে চোখ বোলানো গেল। পোশাক থেকে হরেক রকমের খাবারদাবার, ম্যাসাজ পার্লার— সব নিয়ে এক জাঁকজমক বাজার ওয়াকিং স্ট্রিটের দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেলের দিকে বাসে চেপে পৌঁছলাম আলকাজার থিয়েটারের সামনে। শো শুরু হওয়ার আগে শিল্পীদের সঙ্গে ছবি তোলা যায়। তবে ভাটের বিনিময়ে। নরম পানীয় এবং জলের বোতলের দাম টিকিটের ভেতরেই ধরা থাকে। দেড় ঘণ্টার এই শো আসলে ভারত, তাইল্যান্ড, চিন, জাপান, কম্বোডিয়া, কোরিয়া, আরব— বিভিন্ন দেশের গানের উপর ভিত্তি করে নৃত্যানুষ্ঠান।

দ্বিতীয় দিন

সুনামিতে অনেক কোরাল রিফ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রথম বার প্রবাল দ্বীপ দেখার রোমাঞ্চ ভোলার নয়। এর পর কো লারনে ফিরে গিয়ে খাওয়ার পালা। এখানকার সি-ফুড স্টলগুলিতে পাওয়া যায় কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি, স্কুইড— আরও অনেক রকমের সামুদ্রিক মাছ। খাওয়াদাওয়া সেরে পাটায়ার দিকে রওনা দিলাম।
তৃতীয় দিন
পাটায়া থেকে ব্যাঙ্কক ফেরার আগে ‘সাংচুয়ারি অব ট্রুথ’ দেখে নেওয়ার পালা। সমুদ্রতীরের এই মন্দির উচ্চতায় প্রায় ১০০ মিটার এবং আয়তনে প্রায় ২১১৫ বর্গ মিটার। ১৯৮১ সালে তাই ব্যবসায়ী লেক ভিরিয়াপন্থের উদ্যোগে এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। কাঠের উপর বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি— হিন্দু, বৌদ্ধ, চিন, কম্বোডিয়ার পৌরাণিক কাহিনির অনুপ্রেরণায় খোদিত। মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে বর্ণিত অর্জুনের উদ্দেশ্যে সারথি কৃষ্ণের বাণীও খোদিত আছে এখানে।
চতুর্থ দিন

পঞ্চম দিন

গ্র্যান্ড প্যালেসের মধ্যে হাতাওয়ালা জামা, ফুলপ্যান্ট, মোজা-সমেত চপ্পল পরা বাধ্যতামূলক। সিয়ামের রাজধানী থনবুরি থেকে ব্যাঙ্ককে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এই গ্র্যান্ড প্যালেস ১৭৮২ সালে তাই-ইউরোপিয়ান স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি হয়। প্যালেসের মধ্যে একমাত্র পান্নার বৌদ্ধমন্দিরটি ছাড়া বাকি জায়গাগুলিতে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
প্যালেসের অদূরে শায়িত-বুদ্ধের মন্দির, ওয়াট ফো । প্রবেশমূল্য ১০০ ভাট। এখানে রয়েছে তেতাল্লিশ মিটার লম্বা ও পনেরো মিটার উচ্চতার শায়িত বুদ্ধমূর্তি।
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ওয়াট অরুণ। তাই থা তিয়েন থেকে ফেরি করে ও পারে পৌঁছনো গেল মাত্র ২ ভাটের বিনিময়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজা দ্বিতীয় রামার নির্দেশে হিন্দু দেবতা অরুণের উৎসর্গে বানানো হয় এই মন্দির। এর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন রাজা চতুর্থ রামা। ঝিনুক এবং ভাঙা পোর্সেলিন দিয়ে তৈরি অসংখ্য ফুলের মোটিফ, মন্দিরের গা-কে আরও সুন্দর করেছে। মন্দিরের ওপর থেকে সোনালি বিকেলের চাও ফ্রায়া দেখতে বেশ ভাল লাগে।
ষষ্ট দিন

সপ্তম দিন

নীল সমুদ্র দেখতে দেখতে কখন যে সময় পেরিয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। ফি ফি ডনে পৌঁছাতেই আমরা তৈরি হয়ে নিলাম স্নরকেলিং-এর জন্য। প্রথমটায় বেশ ভয় ভয় করছিল। কিন্তু পরে বেশ মজা পেয়েছি।
নবম দিন

দশম দিন

Comments
Post a Comment